গরু প্রস্তুত ঢাকার হাটে
রাজধানীর হাটগুলোয় এবার কিছুটা আগেই আনা হয়েছে কোরবানির পশু। কারো কারো
মতে, দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যার কারণে গো-খাদ্যের ঘাটতি থাকায় হাটে গরু
নিয়ে এসেছে খামারিরা।
আবার অনেকের ধারণা, ভারতীয় গরু এলে দাম কমে যেতে পারে এবং হাটে
স্থানসংকট হতে পারে, এমন আশঙ্কায় কয়েক দিন আগেই গরু আনা হয়েছে। তবে গরু
আগে এলেও বিক্রি শুরু হয়নি হাটে। অনেকে হাটে গিয়ে দরদাম যাচাই করছে।
প্রতিটি হাটেই সরকারি কয়েকটি সংস্থার পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর কয়েকটি হাট ঘুরে এসব তথ্য
পাওয়া গেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা যায়, এবার তারা ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে। এসবের মধ্যে ৯টি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আর ছয়টি দরপত্র ছাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে সাতটি হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর স্থায়ী হাট হিসেবে গাবতলী হাটেও ব্যাপক পশু এসেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রাক ও ভ্যানে করে গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর প্রায় সব হাটে গরু আনা শুরু হয়েছে। এবার হাটে দেশি গরু বেশি আসছে। রাজধানীর আশপাশ থেকেও অনেক খামারি গরু নিয়ে আসছে।
গতকাল দুপুরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচ শতাধিক গরু রয়েছে। গত শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গরু নিয়ে এসেছে ব্যবসায়ীরা। হাটে স্থানীয় লোকজন ঘুরে ঘুরে গরু দেখা শুরু করলেও বেচা-বিক্রি নেই। গত দুই দিনে একটিমাত্র গরু বিক্রি হয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থেকে ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন হাফিজুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শুক্রবার ১৭টি গরু নিয়ে এ হাটে এসেছি। একটি গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। ’ একই এলাকার গরু ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন জানান, তিনি নিজ খামারের সাতটি গরু এনেছেন। বন্যার কারণে গরুর খাদ্যের কিছুটা অভাব থাকায় তিনি আগেই গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, মাঝারি আকারের ওই গরুগুলো ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হবে বলে। তবে ভারতীয় গরু এলে লোকসান হতে পারে।
ওই হাটে আসা একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, গতবারের চেয়ে এবার দাম একটু কম। গত বছর তাঁরা যে গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন, এ বছর তা ৮০ হাজার টাকা দর উঠছে। টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী ইশতেহার উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ হাটে কয়েক বছর নিয়মিত আসি। শনিবার সন্ধ্যায় হাটে এসেছি। এখনো গরু বিক্রি হয়নি। আশা করছি, বুধবার থেকে বিক্রি শুরু হবে। বাজারের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায় দাম কিছুটা কম পাব। ’ টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন আব্দুল হালিম। তিনি জানান, তাঁর সব গরু দেশি। মাঝারি আকারের এসব গরু ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন তিনি। রাস্তা-ঘাটে এবার পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি হয়নি বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।
আফতাবনগর হাটে কয়েক হাজার গরু এসেছে। সেখানে দেশি গরু বেশি। ছোট গরু ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে আর মাঝারি গরু ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দর চাওয়া হচ্ছে। এ হাটেও বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আশা করছি, হাজার দশেক গরু আসবে আমাদের হাটে। রবিবার পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো গরু উঠেছে। বিক্রি শুরু হয়নি। আশা করছি, বুধবার থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। এখানে ব্যবসায়ীদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ’ ঝিগাতলা হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার গরু হাটে এসেছে। এ হাটের ইজারাদার ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ বলেন, ‘আমাদের হাটে গরু আসা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। আশা করছি, ১০-১২ হাজার গরু এ হাটে আসবে। এরই মধ্যে অর্ধেকের মতো এসেছে। ’ ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ এলাকায় আরেকটি হাট বসানোর ফলে তিনি ব্যবসার দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কামরাঙ্গীর চর হাটের ইজারাদার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাটে গরু একেবারে কম এসেছে। সব মিলিয়ে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০টি গরু এসেছে। এ হাটের গরু নিয়ে আসা ট্রাকগুলো বছিলা ও হাজারীবাগ হাটের লোকজন জোর করে নিয়ে যায়। এবার তিন-চার হাজার গরু আসতে পারে। ’
ডিএনসিসির এলাকার কুড়িল ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে, মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটে, মাদানী এভিনিউ হাটেও গরু আসা শুরু করেছে।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাতটি হাট ইজারা হয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের সার্বিক সুবিধার্থে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হাটগুলোয় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন। ’
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল গতকাল বিকেলে বলেন, ‘৯টি হাট দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এখন সময় না থাকায় আমরা বাকি ছয়টি হাট উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেওয়ার জন্য কমিটি করে দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এ কমিটির আহ্বায়ক আর সম্পত্তি কর্মকর্তা এ কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ’
kalerkantho theke neow
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা যায়, এবার তারা ১৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে। এসবের মধ্যে ৯টি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আর ছয়টি দরপত্র ছাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে সাতটি হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আর স্থায়ী হাট হিসেবে গাবতলী হাটেও ব্যাপক পশু এসেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রাক ও ভ্যানে করে গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর প্রায় সব হাটে গরু আনা শুরু হয়েছে। এবার হাটে দেশি গরু বেশি আসছে। রাজধানীর আশপাশ থেকেও অনেক খামারি গরু নিয়ে আসছে।
গতকাল দুপুরে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচ শতাধিক গরু রয়েছে। গত শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গরু নিয়ে এসেছে ব্যবসায়ীরা। হাটে স্থানীয় লোকজন ঘুরে ঘুরে গরু দেখা শুরু করলেও বেচা-বিক্রি নেই। গত দুই দিনে একটিমাত্র গরু বিক্রি হয়েছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থেকে ১৭টি গরু নিয়ে এসেছেন হাফিজুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত শুক্রবার ১৭টি গরু নিয়ে এ হাটে এসেছি। একটি গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। ’ একই এলাকার গরু ব্যবসায়ী মোসলেহ উদ্দিন জানান, তিনি নিজ খামারের সাতটি গরু এনেছেন। বন্যার কারণে গরুর খাদ্যের কিছুটা অভাব থাকায় তিনি আগেই গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, মাঝারি আকারের ওই গরুগুলো ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হবে বলে। তবে ভারতীয় গরু এলে লোকসান হতে পারে।
ওই হাটে আসা একাধিক গরু ব্যবসায়ী জানান, গতবারের চেয়ে এবার দাম একটু কম। গত বছর তাঁরা যে গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন, এ বছর তা ৮০ হাজার টাকা দর উঠছে। টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী ইশতেহার উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ হাটে কয়েক বছর নিয়মিত আসি। শনিবার সন্ধ্যায় হাটে এসেছি। এখনো গরু বিক্রি হয়নি। আশা করছি, বুধবার থেকে বিক্রি শুরু হবে। বাজারের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায় দাম কিছুটা কম পাব। ’ টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে সাতটি গরু নিয়ে এসেছেন আব্দুল হালিম। তিনি জানান, তাঁর সব গরু দেশি। মাঝারি আকারের এসব গরু ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন তিনি। রাস্তা-ঘাটে এবার পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি হয়নি বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।
আফতাবনগর হাটে কয়েক হাজার গরু এসেছে। সেখানে দেশি গরু বেশি। ছোট গরু ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে আর মাঝারি গরু ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দর চাওয়া হচ্ছে। এ হাটেও বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আশা করছি, হাজার দশেক গরু আসবে আমাদের হাটে। রবিবার পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো গরু উঠেছে। বিক্রি শুরু হয়নি। আশা করছি, বুধবার থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। এখানে ব্যবসায়ীদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ’ ঝিগাতলা হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার গরু হাটে এসেছে। এ হাটের ইজারাদার ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ বলেন, ‘আমাদের হাটে গরু আসা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। আশা করছি, ১০-১২ হাজার গরু এ হাটে আসবে। এরই মধ্যে অর্ধেকের মতো এসেছে। ’ ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ এলাকায় আরেকটি হাট বসানোর ফলে তিনি ব্যবসার দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কামরাঙ্গীর চর হাটের ইজারাদার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাটে গরু একেবারে কম এসেছে। সব মিলিয়ে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০টি গরু এসেছে। এ হাটের গরু নিয়ে আসা ট্রাকগুলো বছিলা ও হাজারীবাগ হাটের লোকজন জোর করে নিয়ে যায়। এবার তিন-চার হাজার গরু আসতে পারে। ’
ডিএনসিসির এলাকার কুড়িল ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে, মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং হাটে, মাদানী এভিনিউ হাটেও গরু আসা শুরু করেছে।
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাতটি হাট ইজারা হয়েছে। সেখানে ক্রেতাদের সার্বিক সুবিধার্থে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হাটগুলোয় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবেন। ’
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল গতকাল বিকেলে বলেন, ‘৯টি হাট দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এখন সময় না থাকায় আমরা বাকি ছয়টি হাট উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেওয়ার জন্য কমিটি করে দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এ কমিটির আহ্বায়ক আর সম্পত্তি কর্মকর্তা এ কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ’
kalerkantho theke neow

No comments